এর জবাবে কানাডার আমদানি পণ্যের ওপর শত কোটি ডলারের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর এফটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা আমাদের বনভূমি ও ঝোপঝাড় সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের শিকার হচ্ছে।’
একে তিনি এক ধরনের ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প কানাডার রাজধানী অটোয়ার বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলার’ অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, কানাডার অবহেলার কারণে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শত কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। এ দূষণের অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসাবের বাইরে।
কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল। এর অধিকাংশই এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এর মধ্যে কেবল অন্টারিও প্রদেশেই জ্বলছে ১৯০টির বেশি দাবানল।
দাবানল ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ না করে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার হাত বাড়াতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানায় কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। এর পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে কর আরোপের হুমকি এল।
এদিকে সংকটকে কেন্দ্র করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিতর্কিত দাবিটি আবারো তুলেছেন মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ। রিপাবলিকানদের এমন অবস্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কানাডার নাগরিকরা। প্রতিবাদস্বরূপ অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বর্জন করছেন।
কানাডার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভয়াবহ দাবানলে দেশটির প্রায় ৩০ হেক্টর বনভূমি এরই মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রেও। ওটাভার দাবানলের ঘন ধোঁয়ার আস্তরণ মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও ও নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর আকাশকে পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছে।